গ্রাম্য চা বিক্রেতার সন্তান ঢাবি ভিপি হলেন

ছয় বছর বয়সে মা মারা যান। পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে তিনি বড় হয়েছেন কৃষক বাবার যত্নে। প্রত্যন্ত জনপদে অনেকটা চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে মারা যান মা। এ থেকে জেদ জেগেছিল চিকিৎসক হওয়ার। নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর অধিকার আদায়ের দায়িত্ব নিয়েছেন কাঁধে। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু   নির্বাচনে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের উত্থানের গল্পটা অনেক ত্যাগ আর সংগ্রামের। নুরের জন্ম পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় নুর।

নুরের বাবা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. ইদ্রিস হাওলাদার। তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, ১৯৯৩ সালে নুরের ছয় বছর বয়সে তার মা নিলুফা বেগম মারা যান। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় তার চিকৎসায়ও সমস্যা হয়। এ থেকে নুর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।  ১৯৭৫ সালে বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামের  পৈতৃক নিবাস ছেড়ে নুরুলের দাদা ও ৩ চাচা গলাচিপার উত্তর চরবিশ্বাস এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ১৯৯১ সালে তার পিতা ইদ্রিস হাওলাদার নিজ এলাকায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তার কয়েক কানি জমি এবং স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান রয়েছে। নুরের বড়ভাই নুরুজ্জামান ও ছোটভাই আমিনুল ইসলাম ঢাকা উত্তরা এলাকায় মুদি মনোহরী ও গেঞ্জির ব্যবসা করেন। তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। বাকি দুই বোনের মধ্যে সীমা আক্তার দশমিনা কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে এবং ইতি আক্তার চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। জনতা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবু বকর জানান নুরুল জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়া অবস্থায় সে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিল। নুরুল চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে ঢাকায় চলে আসেন। ২০১০ সালে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর গোলাম নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং ২০১২ সালে ঢাকা উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ পান। মাঝে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এদিকে তিনবছর আগে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাতেম আলীর মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে বিয়ে করেন নুর। নুরের স্ত্রী মরিয়ম স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
নুরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার মানবজমিনকে বলেন, ছেলের জয়ে আমার এলাকার সর্বস্তরের মানুষ খুব খুশি। এ বিজয় সকলের। আমার ছেলে ভবিষ্যতে যাতে বড় কিছু হতে পারে তার জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চান। 
ছেলের আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, সব সাধারণ ছাত্রছাত্রীর জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সে হামলার শিকার হয়েছে। তবু আমি চাই সে এটা চালিয়ে যাক। নুর-এর বাবা চান তার ছেলে যে পথে হাঁটছে সততার সঙ্গে তা যেন অব্যাহত রাখেন। নুরুল হক নুর  কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় তার ওপর দফায় দফায় হামলা হয়েছে। শিবিরকর্মী বলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে। ইদ্রিস হাওলাদার জানিয়েছেন তার ছেলে এমন কোনো দলের রাজনীতি করেননি। নুর ছাত্রলীগের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ইউনিটের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বাবুল মুন্সী বলেন, নুরের অর্জন চরাঞ্চলের মানুষকে আনন্দিত করেছে। তাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। 

স্টার বাংলা টিভি চ্যানেলের শুভ যাত্রা

অনলাইন ডেস্ক : অদ্য ৫/২/২০১৯ তাং ঢাকার ২২/১, তোপখানা রোড ( ৫ম তলা ) শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবন, রুম নং ৫১০ থেকে স্টার বাংলা টিভির পরীক্ষা মূলক সম্প্রচার শুরু হয়েছে। সবাইকে নিয়মিত দেখার আমন্ত্রণ রইল। উল্লেখ্য স্টার বাংলা টিভি’র মূল লক্ষ্য সমাজের সুবিধা বঞ্চিত গন মানুষের সুখ – দুঃখ তুলে ধরা মানুষের সামনে।

সম্পদে আতিকুল, শিক্ষায় হাজ্জাজ

অনলাইন ডেক্সঃ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণকারী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তৈরি পোশাক খাতের কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শায়লা শগুফতা ইসলামের  বছরে আয় এক কোটি ৩৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬৭ টাকা। এর মধ্যে আতিকুল ইসলামের আয় এক কোটি ৯ লাখ ৩১ হাজার ৯৭৫ টাকা এবং শায়লা শগুফতা ইসলামের আয় ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯২ টাকা।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য থেকে আরো জানা যায়, আতিকুল ইসলামের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে পাঁচ কোটি ৮৭ লাখ ৭৮ হাজার ৮০৭ টাকার। এর বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে এক হাজার ৫৭৬ দশমিক ১৩ মার্কিন ডলার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ৮৭ লাখ ছয় হাজার ৩৪৮ টাকা। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে এক কোটি ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৯ টাকা।  কম্পানির শেয়ার রয়েছে তিন কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। স্বর্ণ বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর অলংকার রয়েছে দুই লাখ টাকার। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে ১০ লাখ টাকার।

স্থাবর সম্পদ রয়েছে কৃষি, অকৃষি, মৎস্য খামার ও বাড়ি/এপার্টমেন্টসহ মোট ছয় কোটি ৯৫ লাখ ৯৬ হাজার ২৪ টাকা মূল্যের। ব্যাংক ঋণ রয়েছে  এক কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭১ টাকা।

এ ছাড়া আতিকুল ইসলামের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৭৫ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং ৩০ ভরি অলংকার। মেয়ে বুশরা আরফিনের নামে ব্যাংকে রয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৯৩৪ টাকা। 

হলফনামার তথ্যানুসারে আতিকুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম (পাস)। তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত নন এবং তিনি বর্তমানে ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

আতিকুল ইসলামের নিজের এবং স্ত্রী-কন্যার নিজস্ব যানবাহন রয়েছে কি না হলফনামায় তার উল্লেখ নেই।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) থেকে শাহিন খান হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি স্বশিক্ষিত। আয়ের কোনো উৎস আছে কি না তা উল্লেখ করেননি। সিএমএম আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান। নিজের কাছে নগদ দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা রয়েছে। ব্যাংকে রয়েছে তিন লাখ টাকা। সাড়ে আট লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে। আর রয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের তিন ভরি অলংকার।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে ববি হাজ্জাজের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ। পেশা শিক্ষকতা। পেশা থেকে বছরে আয় তিন লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর আয় বছরে তিন লাখ টাকা। ববি হাজ্জাজ বছরে ব্যাংক থেকে সুদ পান ১২ হাজার ৪১২ টাকা। নগদ টাকা রয়েছে ৫৪ লাখ ১০ হাজার ৮৬ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা। ডেটকো প্রাইভেট লিমিটেডে রয়েছে ৫০০ শেয়ার। স্ত্রীর নামে নগদ রয়েছে ৪৫  হাজার টাকা, আর ব্যাংকে জমা আছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। নিজের রয়েছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটর গাড়ি। নিজের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য জানেন না। আসবাবপত্র রয়েছে পাঁচ হাজার টাকার। আর স্ত্রীর রয়েছে ৪০ লাখ টাকার গয়না, পাঁচ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং চার লাখ টাকার আসবাবপত্র। ঋণ দিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা আর অন্যান্য বিনিয়োগ রয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৯০০ টাকা।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনিসুর রহমান দেওয়ানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি। তাঁর নামে ফৌজদারি কোনো মামলা নেই। ৯০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আয়ের উৎস নেই। নগদ টাকা রয়েছে নিজের নামে ৩০ হাজার এবং স্ত্রীর নামে ১০ হাজার। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে এক লাখ আট হাজার টাকা। এ ছাড়া স্ত্রীর রয়েছে ২০ ভরি গয়না, নিজের এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও এক লাখ টাকার আসবাবপত্র।

স্বতন্ত্র প্রার্থী নর্থ সাউথ প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিম তাঁর হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি অষ্টম শ্রেণি পাস। তাঁর নামে ফৌজদারি মামলা রয়েছে আটটি। তাঁর বার্ষিক আয় তিন লাখ ৮২ হাজার ৪৯৭ টাকা। তাঁর ওপর পরিবারের নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দুই লাখ ৮৮ হাজার ৫৪২ টাকা। নিজ নামে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তিন লাখ তিন হাজার ৩০০ টাকার। আর স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তিন লাখ আট হাজার ৯৮ টাকার।

শিশু ভাড়া করে চলছে ভিক্ষা বাণিজ্য

অনলাইন ডেস্ক :      ঢাকায় শিশু ভাড়া করে চলছে ভয়ঙ্কর ভিক্ষা বাণিজ্য। ৩ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভাড়া নিয়ে নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় ভিক্ষা করেন নারীরা। তাদের কোলে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা যায় এ শিশুদের।

দেখে শিশুটির মা মনে হলেও আসলে ওই নারীরা তাদের ভাড়ায় নিয়ে আসেন। রাজধানীর শাহবাগ, মগবাজার, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, ভাড়ায় আনা শিশুটি যাতে কাঁদতে না পারে সে জন্য তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ফলে ভিক্ষুক নারীর কাঁধে মাথা রেখে সারাক্ষণ ঘুমায় শিশুটি। চিকিৎসকরা বলছেন, ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোসহ নানা কারণে এ সব শিশুরা বিকাশজনিত সমস্যার পাশাপাশি নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, নগরীকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে সমাজসেবা অধিদফতর একটু নজর দিলে মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে তা আরও সহজ হবে।

সরেজমিন, রাজধানীর মগবাজার, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকা ঘুরে কোলে শিশু নিয়ে নারীদের ভিক্ষা করতে দেখা গেছে। গুলশানেও শিশু কোলে নিয়ে ভিক্ষা করছেন নারীরা।

গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ এলাকায় কোনো ভিক্ষুক চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার সকালেও গুলশান-বাডডা লিংক রোডে তিন মাসের সন্তান কোলে নিয়ে ভিক্ষা করার সময় শারমীন আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। কোলের বাচ্চাটি তার নিজের বলে দাবি করলেও পুলিশের সন্দেহ- এ বাচ্চা সে ভাড়ায় আনতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার মগবাজার এলাকায় ১ বছর বয়সী একটি শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় কোলে নিয়ে ভিক্ষা করতে দেখা যায় এক নারীকে। ওই নারী জানান, তার নিজের নাম আছমা। কোলের শিশুটি তার মেয়ের বলে দাবি করেন তিনি। জানান, শিশুটিকে রেখে তার মেয়ে মারা গেছে ৬ মাস আগে। মেয়ের স্বামী বাচ্চাটিকে তার কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছে। সে খোঁজ-খবর রাখে না। এখন বাচ্চাটিকে মানুষ করতে পথে পথে ভিক্ষা করছি। বাসা কোথায় জানতে চাইলে তিনি আর কথা না বলে উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করেন।

বুধবার দুপুরে শাহবাগ মোড়ে একটি মেয়েকে কোলে নিয়ে ভিক্ষা করছিলেন রাশিদা নামে মাঝবয়সী এক নারী। শিশুটিকে নিয়ে কখনও রাস্তায় পথচারীর কাছে, আবার কখনও প্রাইভেট কারের জানালায় গিয়ে ভিক্ষা চাইছিলেন তিনি। কোলে ঘুমাচ্ছিল শিশুটি। রাশিদা জানান, শিশুটির নাম সালমা।

শিশুটির জন্মের পর তার বাবা অন্যত্র বিয়ে করেছে। এরপর থেকে সংসার চালাতে না পেরে তিনি শিশুকে নিয়ে ভিক্ষা করছেন। শিশুটি ঘুমাচ্ছে কেন? এ প্রশ্ন করতেই ওই নারী আর কথা না বলে সরে যান। এদিকে হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থানরত এক ভিক্ষুক যুগান্তরকে জানিয়েছেন, যে সব নারী রাস্তায় বাচ্চা কোলে নিয়ে ভিক্ষা করেন, তারা ওই শিশুটিকে আগে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন।

আর যাতে পায়খানা না করে সে জন্য সারাদিন কোনো খাবার না দিয়ে শুধু বেঁচে থাকার জন্য পানি খাওয়ান। এতে দুর্বল হয়ে পড়া শিশুটি ঘাড় ঝুলিয়ে শুয়ে থাকে। এভাবে শিশু কোলে নিয়ে ভিক্ষা করতে দেখা গেছে, রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ, বিজয় সরণি সিগনাল, পান্থপথ সিগন্যালসহ বিভিন্ন এলাকায়।

রাস্তায় শিশুদের দেখিয়ে সহজেই ভিক্ষা পাওয়া যায় বলে এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অনেকে। গড়ে উঠেছে একাধিক চক্রও। বাংলাদেশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিসিএইচআরডি) নামে একটি সংস্থা ভিক্ষুকদের নিয়ে গবেষণার কাজ করছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল হক, যুগান্তরকে বলেন, নগরীর যে সব এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, সে সব এলাকায় ইদানীং ভিক্ষুকের আনাগোনা বেড়েছে।

ধর্ষক বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিল ১২ বছরের মেয়ে

অনলাইন ডেস্ক :     রাজধানীর গেন্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের পাশে দীননাথ সেন রোডের একটি বাসায় প্রতিবেশি দুই বছরের শিশু আয়েশাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মো. নাহিদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তি।

ধর্ষণ চেষ্টার সময় শিশু আয়েশার চিৎকারে নাহিদের নিজের মেয়ে ফাতেমা জাহান বুশরা (১২) এগিয়ে আসে। এ সময় নাহিদ মেয়েকে ধমক দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে শিশু আয়েশাকে তিন তলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেন।

নির্মম এই ঘটনাটি ঘটে গত ৫ জানুয়ারি।

বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন আয়েশার বাবা ইদ্রিস আলী বাদি হয়ে গেণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেন। খুনিকে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী গেন্ডারিয়া থানা ঘেরাও করে ও এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে নাহিদকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) পুরান ঢাকার সিএমএম আদালতে বাবা নাহিদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেয় সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তার মেয়ে বুশরা।
বাবার কুকর্মের কথা তুলে ধরে আদালতে বুশরা জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে সে বাড়ির বারান্দায় বসেছিল। এমন সময় তার বাবার কক্ষ থেকে ছোট শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় সে।

পরে সেখানে গিয়ে দেখতে পায় বাবা বিছানায় আর শিশু আয়েশা বাবার কোলে কাঁদছে।

তখন নাহিদ বুশরাকে ধমক দিয়ে বলেন- এই তুই এখানে এসেছিস কেন? ধমক খেয়ে বুশরা অন্য রুমে চলে যান। এরপর নাহিদ শিশু আয়েশাকে তিন তলা থেকে নিচে ফেলে দেন।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ কমিশনার মো. ফরিদ উদ্দিন এসব তথ্য জানান।

ডিসি ওয়ারী বলেন, নিহত শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করি। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিবেশী নাহিদের বাসা থেকে শিশুটিকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

পরে নাহিদকে আটক করতে গেলে সে বাসার খোলা বারান্দা দিয়ে পালিয়ে আরও তিনটি বাসার ছাদ পেরিয়ে নিচে লাফ দেয়। এতে তার দুই পা ভেঙ্গে যায়। আহত অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়৷ পুলিশি হেফাজতে নাহিদের চিকিৎসা চলছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিসি ওয়ারী জানান, প্রতিবেশী শিশু আয়েশাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে নেয় নাহিদ। পরে তাকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তিন তলা থেকে নিচে ফেলে হত্যা করে।

জিজ্ঞাসাবাদে এর বেশি কিছুই জানা যায়নি, কারণ নাহিদ অনেক বেশি অসুস্থ।

ফরিদ উদ্দিন আরো বলেন, ৫ বছর আগে নাহিদের স্ত্রী মারা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি। ১২ বছরের মেয়ে বুশরাকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকতেন।

প্রসঙ্গত, গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডের ৫৩/১/ছ নম্বর চারতলা বাড়ির পাশে টিনশেড বস্তিতে মা-বাবা ও তিন বোনের সঙ্গে থাকতো দুই বছরের শিশু আয়েশা। তার বাবা-মা প্রতিদিন সকালে কাজে যেত, সে সময় বাসার গলিতে খেলে বেড়াতো শিশু আয়েশা।

অন্যদিনের মতো গত শনিবারও বিকালে খেলতে বের হয় আয়েশা। সন্ধ্যার দিকে টিনশেড বস্তির পাশের চারতলা বাড়ির সামনে আয়েশার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.