মোবাইল মাদক আসক্তি’র মত সর্বনাশ

আব্দুস সামী প্রিন্স। বয়স আড়াই বছরের একটু বেশি। বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। বাবা পেশায় দলিল লেখক। মা গৃহিণী। বাসা চানখাঁরপুল আগামসি লেনে। প্রিন্সের বয়স যখন মাত্র ৬ মাস তখনই তার বাবা মজা করে ছেলের হাতে নিজের ফোন তুলে দেন। এরপর আরেকটু বড় হলে অতি আহ্লাদ করে ছেলেকে দামি একটি ট্যাব কিনে দেন।

সেই আহ্লাদই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইলে ভিডিও দেখা ছাড়া সে কখনোই খাবার খায় না। নিজ থেকে   বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না প্রিন্স। কারো সঙ্গে মিশে না। এমনকি ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে পর্যন্ত খেলতে চায় না। ইউটিউবে কার্টুন, বাচ্চাদের ভিডিও, মিস্টার বিনের মুখাভিনয় এসব দেখতে বেশি পছন্দ করে। তার মানসিক বিকাশ বহুলাংশেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেটা নিয়ে তার পরিবারের সবাই খুব চিন্তিত। এই সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছেন প্রিন্সের মা।      

আতিয়া। বয়স ১৮। তিন বোনের মধ্যে সবার বড়। বাবা রাজনীতিবিদ। মা গৃহিণী। যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ক্লাস নাইন থেকে ফোন ব্যবহার করে। ফোন তার ধ্যান-জ্ঞান। যতক্ষণ জেগে থাকেন ততক্ষণই ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে ফেসবুক বা ফোন আসক্ত বলা যায়। আতিয়া বলেন, রাত ২টা থেকে ৩টার আগে সাধারণত ঘুমানো হয় না। দিনের বেলায় ঘুম থেকে উঠি দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টায়। সারাদিনে যখনই সুযোগ পাই তখনই ফেসবুকে নিউজফিড নিয়ে ব্যস্ত থাকি। প্রত্যেকদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ফেসবুকে থাকি। মাঝে মধ্যে একটু টেলিভিশনও দেখি। বলতে গেলে ঘুম আর নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে বাকি সময়টা ফেসবুকেই থাকি।

মা আমাকে ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে দেয় না। হাতেগোনা কয়েকজন মেয়ে বন্ধু ছাড়া আর কোনো বন্ধু নেই। তাই নিঃসঙ্গতা কাটাতে ফেসবুক নিয়েই পড়ে থাকি। এরই মধ্যে বাসার এক হাউজ টিউটরের সঙ্গে প্রেম হয়। এ প্রেমের স্থায়িত্ব ছিল ১০ মাস। এর কয়েক মাস পরে মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। সেটাও গত ৫ই জানুয়ারি নিজেই ভেঙে দিয়েছেন। এখন তার নিঃসঙ্গতার একমাত্র সঙ্গী ফেসবুক। সম্প্রতি বাবা-মায়ের সঙ্গে রাগ করে ২৪ ঘণ্টা নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে ছিলেন। এই পুরো সময়টাই বলতে গেলে ফেসবুকে কাটিয়েছেন। বাবা-মা বকাঝকা করায় কয়েলের স্ট্যান্ড দিয়ে নিজের হাতের বাহুর কিছু অংশ কেটে ফেলেছেন। আতিয়ার কথা- প্রায়ই মনে হয় আত্মহত্যা করি। নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যখন তখন রেগে যাই। কোনো একটা বিষয় নিয়ে এতটাই কনফিউজড থাকি যে, বাসার বাইরে যেতে কোন জামাটা পরবো সেটাও ৩ থেকে ৪ জনকে জিজ্ঞেস করে পরতে হয়। মা খুব খারাপ ভাষায় বকাঝকা করেন। যেটা আমার একদমই পছন্দ নয়। মেজো বোনের সঙ্গে সব কথা শেয়ার করি। সেই এখন আমাকে ভালো-মন্দ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে।

রাইসুল ইসলাম। ঢাকার ইসলামবাগের একটি স্কুলে নবম শ্রেণির ছাত্র। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। মোবাইল ছাড়া খাবার খায় না। রাত ২টা পর্যন্ত মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকে। বলতে গেলে ঘুম বাদ দিয়ে ২৪ ঘণ্টাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অধিকাংশ দিনই সারাদিন না খেয়ে থাকে। তার মা বলেন, সপ্তাহে ৫ থেকে ৭ দিন পরে একবার গোসল করে। অনেক সময় বাবা-মা কাউকে ঠিকভাবে চিনতে পারে না। গত দুই বছর ধরে মোবাইল গেমস ও ইউটিউবের সঙ্গে সম্পৃক্ত সে। মোবাইল কেড়ে নিলে তার কিছু ভালো লাগে না। 

রাত ৩টার আগে ঘুমায় না। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। মোবাইল কেড়ে নিলে বাসা থেকে টাকা নিয়ে নতুন মোবাইল কিনে। স্কুল ও কোচিং ফাঁকি দিয়ে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে।দৈনিক প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করে।
মোবাইল, ফেসবুক আসক্তি শিশু-কিশোরসহ অনেকের মনোজগতেই আনছে বিপুল পরিবর্তন। ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক জীবন, চিন্তা। এই আসক্তির ফলে আবেগ-অনুভূতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হতাশা ও দুশ্চিন্তা পেয়ে বসে। একাকী বোধ হয় ও নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করে আসক্ত ব্যক্তি। কাজের সময় ঠিকঠাক থাকে না। কাজের আগ্রহ হারিয়ে যায়। সময় জ্ঞান লোপ পায়। অসৎ পথে পরিচালিত হতে বাধ্য করে। নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে ঈর্ষাবোধ হতে শুরু করে। দায়-দায়িত্ব ভুলে মনোযোগ ডুবে থাকে অনলাইনে। ফলে সম্পর্ক নষ্ট হয়।

২০১৮ সালে ‘দ্যা ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ’-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটির বেশি। তার মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখের মতো। বাংলাদেশে ১৩-১৭ বছর বয়সী ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ। এবং ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সীদের হার ৪২ শতাংশ। 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. ফারুক আলম বলেন, ফোন বা ইন্টারনেট এডিকশন একটি রোগ। এটা আরম্ভ হয় খুব বেশি ব্যবহারের ফলে যখন নির্ভরশীল হয়ে যায়। তখন এটা তারা বন্ধ করতে পারে না। বন্ধ করলে খারাপ লাগে। কষ্ট হয়। বর্তমানে অনেক বাবা-মা বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখতে ২ থেকে ৩ বছর বয়সেই ফোন, গেইমস-ইন্টারনেট ইত্যাদি হাতে ধরিয়ে দেন। 

এতে যে বাচ্চা আসক্ত হয়ে যাচ্ছে সেটা তারা লক্ষ্য করছে না। অথচ এই বয়সে বাচ্চাদের খেলাধুলা, স্কুল, বন্ধু-বান্ধব এই বিষয়গুলো  বেশি আশা উচিত। সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা বেশি হওয়ার কথা থাকলেও সেটা কিন্তু হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সমস্যাটা হচ্ছে বাবা-মায়ের মধ্যে। তারা সন্তানদের রিক্রিয়েশনাল একটিভিটি বা খেলাধুলা এসবের বিকল্প হিসেবে মোবাইল তুলে দিচ্ছে। ফলে বাচ্চারা ব্লু হোয়েলের মতো ভয়ঙ্কর সব গেইমস খেলায় যখন আসক্ত হয়ে যায় তখন তাদের সরানো অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এ ছাড়া এখনকার বাচ্চারা বেশির ভাগ নিজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে। যেটাকে বলা হয় অর্টিজম অর্থাৎ নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকা। 

তারা কারো সঙ্গে না মিশা, কারো চোখে চোখ রেখে না তাকানো, কথা না বলা, কার্টুন-মোবাইল, টিভি স্ক্রিন ইত্যাদি নিয়ে বসে থাকে। ফলে সে যখন বড় হবে তখন তার সামাজিক দক্ষতা তৈরি হবে না। সে লেখাপড়া, সামাজিক কর্মকাণ্ড সবক্ষেত্রেই দুর্বল থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে তার সফলতাও কম আসবে। এ সমস্যা সমাধানে বাচ্চাদের হাতে একদমই মোবাইল ফোন দেয়া যাবে না। বাসায় মোবাইল ফোন বড় ভাইবোন বা বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফোনের বিকল্প হিসেবে বন্ধু-বান্ধব, খেলাধুলা, আত্মীয়স্বজন ও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বাইরে বেড়ানো এসব সামাজিক কর্মকাণ্ডে বাচ্চাদের উৎসাহিত করতে হবে। 

চাঁদের উল্টো পিঠে চীনের নভোযান

অনলাইন ডেস্ক :    চাঁদের যে অংশটি পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না, সেই দূরবর্তী দিকে এই প্রথম একটি রোবট চালিত মহাকাশযান নামিয়েছে চীন।

চীনের মহাকাশযান চাঙ-আ ৪ চন্দ্রপৃষ্ঠে সফলভাবে অবতরণ করেছে বলে দাবি করছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এটিকে চীনের মহাকাশ কর্মসূচীর জন্য এক বিরাট সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

চাঙ-আ ৪ চাঁদের দূরবর্তী দিকের যেখানে ভূমি স্পর্শ করে, সেটি ‘সাউথ পোল এইটকেন বেসিন’ নামে পরিচিত। চাঁদ গঠিত হওয়ার একেবারের শুরুর দিকে বিরাট কোন সংঘর্ষের ফলে সেখানে এই বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

চীনের মহাকাশ কর্মসূচীর বয়স বেশি নয়। ২০০৩ সালে চীন প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার পর তারা হচ্ছে তৃতীয় কোন দেশ যারা মহাকাশ কর্মসূচীতে এরকম সাফল্য দেখালো।

আগামী কয়েক বছরে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাকাশ টেলিস্কোপ ও বিশ্বের সবচেয়ে ভারী রকেট উৎক্ষেপণ এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো নিজেদের মহাকাশ স্টেশন বসানোর পরিকল্পনা করছে।

চীনের মহাকাশ কর্মসূচীর পাঁচটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হচ্ছে:

১. চাঁদে অভিযান

চীনের চাঙ-আ মহাকাশযানটির নাম রাখা হয়েছে এক চীনা দেবীর নামে। চীনা উপকথা অনুযায়ী, এই দেবী চাঁদে উড়ে যেতে পারেন। ২০০৩ সালে চীন তাদের কর্মসূচী শুরু করে। তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানো।

চাঁদের উল্টোপৃষ্ঠে কোন মহাকাশযানকে অবতরণ করানো বেশ কঠিন বলে মনে করা হয়। কারণ মহাকাশযানের সঙ্গে পৃথিবীর সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে চাঁদ নিজেই একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য চীন পৃথিবী আর চাঁদের মাঝখানে একটি ‘রিলে স্যাটেলাইট’ বসিয়েছে। পৃথিবী থেকে এই স্যাটেলাইটের দূরত্ব প্রায় চার লাখ কিলোমিটার। এই স্যাটেলাইট থেকেই চীনের লুনার ল্যান্ডার এবং রোভারের সিগন্যাল পাঠানো হচ্ছে।

চাঙ-আ ৪ অনেক যন্ত্রপাতি বহন করে নিয়ে গেছে চাঁদে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর জন্য। চাঁদের উল্টোপৃষ্ঠের অনেক কিছুই যেহেতু এখনো পর্যন্ত অজানা, তাই সেখানে তারা যন্ত্রপাতি পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবে।

একটি ‘মিনি বায়োস্ফেয়ার’ বা জীবমন্ডল তৈরি করে সেখানে আলু ফলানো যায় কীনা, কিংবা রেশমগুটি ফুটানো যায় কীনা, তা নিয়েও পরীক্ষা চালাবে চীন।

পৃথিবী থেকে কখনোই যে চাঁদের একটি পৃষ্ঠ দেখা যায় না, সেটিকে ‘টাইডাল লকিং’ বলে বর্ণন করা হয়। এর মানে হচ্ছে, চাঁদ যে গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, ঠিক সেই একই গতিতে এটি নিজের অক্ষের ওপর ঘুরে। ফলে চাঁদের একটি অংশ পৃথিবী থেকে অদেখা থেকে যায়। যাকে চাঁদের ‘ডার্ক সাইড’ বলেও বর্ণনা করা হয়।

মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি

অনলাইন ডেস্ক :   একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র তিন দফা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। শনিবার মধ্যরাতে বিটিআরসির নির্দেশে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে সবগুলো মোবাইল অপারেটর।

৭ ডিসেম্বর রাত ১০টা থেকে ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রথমবার দেশের সব মোবাইল ফোনে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপর ২৯ ডিসেম্বর (শনিবার) বিকাল ৩টা থেকে দ্বিতীয় দফায় থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় দফায় থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করা হলেও টুজি ইন্টারনেট চালু ছিল। তবে এদিন মধ্যরাত থেকে টুজি ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কার্যত মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে ও গুজব প্রতিরোধে’ সরকারের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন (৩০ ডিসেম্বর) মধরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখনও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক।

তিনি বলেন, আমরা (আইএসপিএবি) ইন্টারনেটের বিষয়ে কোনও ধরনের নির্দেশনা এখনও পাইনি। সেহেতু ধরে নিতে পারি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদেরটা (ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট) বন্ধ না হওয়াই উচিত। বন্ধ হলে ব্যবসায়িক এবং অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা খোলা রাখলে সরকারের কোনও ক্ষতি হবে না বলে আমরা মনে করি।

প্রসঙ্গত, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগে ‘অপপ্রচার’ ঠেকাতে গত ১৩ ডিসেম্বর এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ইন্টারনেটের গতি কমানোর প্রস্তাবনা দেয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

ওই বৈঠকে সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সমন্বয়সভায় এই পরামর্শ দেয়া হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। এতে সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, সব রিটার্নিং অফিসার, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি বলেন, নির্বাচনে মোবাইল ব্যাংকিং ও বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে টাকার লেনদেন হয়। এসব দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন।

ঊর্ধ্বতন একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ঠেকাতে তিনি নির্বাচনের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি থেকে নামিয়ে টুজি করা এবং ভোটকেন্দ্রে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর সরাসরি সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দেন।

র‌্যাবের ডিজি বলেন, ২০১৪ সালের মতো কোনো ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। সাইবার ওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত করে গুজব ছড়িয়ে যাতে নির্বাচনী পরিবেশ বানচাল করতে না পারে, সেদিকে তাঁরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

র‌্যাব বিটিআরসির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনিও ভোটের সময়ে তিন দিনের জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি থেকে নামিয়ে টুজিতে আনার প্রস্তাব করেন।

নির্বাচনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি থেকে টুজিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন আনসারের মহাপরিচালকও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে তিন দফায় সিদ্ধান্ত নিয়ে টুজি, থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।

এসএমএসে জানা যাবে কেন্দ্রের নাম ও ভোটার নম্বর

অনলাইন ডেস্ক :  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা মোবাইল ফোনে এসএমএস- এর মাধ্যমে তাদের ভোট কেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে পাঠানো এসএমএস পূরণ করলে ফিরতি এসএমএসে এটি জানা যাবে। শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশের ভোটকেন্দ্রের নাম জানানোর জন্য কমিশন থেকে শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোটারদের কাছে এসএমএস পাঠানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটি এসএমএস তৈরি করেছি। এসএসসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল যেভাবে এসএমএসের মাধ্যমে জানা যায়, সেভাবেই ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র ভোটাররা জানতে পারবেন।’

তিনি জানান, ইসি থেকে সব ভোটারকে এসএমএস পাঠানো হবে। ওই এসএমএস-এ জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিলে ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর, কেন্দ্রের নম্বর ও ভোট কক্ষের নাম জানতে পারবেন।

এদিকে, ইসির যুগ্ম-সচিব আব্দুল বাতেন জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে যে ছয়টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, ওই আসনগুলোর ভোটারদের এসএমএস-এর মাধ্যমে কোন কেন্দ্রে  ভোট দেবেন, তার ভোটার নম্বরসহ তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন,  ‘ভোট দেওয়ার জন্য স্মার্ট কার্ড বা পেপার লেমিনেটেড কার্ড আবশ্যক নয়। তারপরও যেসব আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, সেখানকার ভোটারদের আমরা অনুরোধ করেছি— তাদের স্মার্ট কার্ড, লেমিনেডেট কার্ড বা ভোটার আইডি নম্বর থাকলে তা নিয়ে যেতে। এটা হলে তার ভোটদান অধিকতর সহজ হবে। তবে এসব না নিয়ে গেলেও ভোট দেওয়া যাবে।’

ফোর জি ও থ্রি জি মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক :  মোবাইল ইন্টারনেটের থ্রি জি ও ফোর জি সেবা বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতরাতে বিটিআরসি মৌখিকভাবে মোবাইল অপারেটরদের এ নির্দেশ দেয়। রাতেই মোবাইল কোম্পানিগুলো এ নির্দেশনা কার্যকর করে। টু জি সেবা চালু রয়েছে। দুটি মোবাইল কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিটিআরসির নির্দেশনার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মোবাইল কোম্পানির কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা বহাল থাকবে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত চালু রয়েছে।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.