আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ফের সমকামিতার অভিযোগ!

মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ফের সমকামিতার অভিযোগ উঠেছে। এবার অভিযোগ এনেছেন তারই সাবেক এক সহকারী। ওই ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও এনেছেন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আনোয়ারের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ উঠলো। জাপানের নিক্কেই এশিয়ান রিভিউর খবরে বলা হয়, মুহাম্মদ ইউসুফ রাওথার নামে ওই গবেষক আনোয়ারের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। বুধবার তিনি জানান, ১৯ নভেম্বর তিনি শপথগ্রহণপূর্বক বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার তার কাছ থেকে যৌন সুবিধা চেয়েছেন। এমনকি কুয়ালালামপুরে তার বাসায় তাকে যৌন আক্রমণেরও চেষ্টা চালান।
এই ঘটনা ঘটেছে এক বছরেরও কিছু সময় আগে।তাই প্রশ্ন উঠছে এতদিন তিনি এ নিয়ে সামনে আসেননি কেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই অভিযোগকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। বিশেষ করে, আনোয়ার ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আজমিন আলির মধ্যে চলমান রাজনৈতিক দ্বৈরথের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় সমকামিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। দোষী সাব্যস্ত হলে ২০ বছরের সাজা পেতে হতে পারে। তবে নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন আনোয়ার। আবার অভিযোগকারী মুহাম্মদ ইউসুফের কয়েকজন আত্মীয় প্রকাশ্যেই বলেছেন, তাকে কয়েকজন রাজনীতিবিদ আনোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন।

প্রসঙ্গত, আনোয়ার ইব্রাহিমের দল ও মাহাথির মোহাম্মদের দল জোটগঠন করে সরকার গঠন করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, মাহাথির মোহাম্মদ নির্বাচিত এই সরকারের মেয়াদের প্রথম অর্ধেক ক্ষমতায় থাকবেন। এরপর বাকি অর্ধেক সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সেই হিসাবে মাহাথির মোহাম্মদের সময়কাল ক্রমেই শেষ হয়ে আসছে। আগামী বছরই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসার কথা আনোয়ারের। তাই তার ঘনিষ্ঠজনরা এই নতুন অভিযোগকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আনোয়ার বলেন, ‘আমি শক্ত ভাষায় এই ভিত্তিহীন কুৎসা প্রত্যাখ্যান করছি। এটি আমার ভাবমূর্তি হরণের অপচেষ্টা বৈ কিছু নয়। শিগগিরই আমার দল কেয়াদিলান-এর ন্যাশনাল কংগ্রেসের ১৪তম কংগ্রেস হবে। এছাড়া দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদল ঘটবে। এসবকে সামনে রেখেই এই কাজ করা হয়েছে।’ এদিকে আনোয়ারের একজন সহকারী তার পক্ষে অভিযোগকারী ইউসুফের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আনোয়ার তার দলের আসন্ন কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করবেন। তার স্ত্রী এতদিন দলের সভাপতিত্ব করেছেন। তার স্ত্রী বর্তমানে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী। তার মেয়ে নুরুল ইজ্জাহ সংসদ সদস্য। অপরদিকে আজমিন হলেন একই দলের উপ-প্রেসিডেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, আনোয়ারের প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের পথে প্রবল চ্যালেঞ্জ গড়ে তুলবেন আজমিন। দলের তৃণমূলে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
তবে আজমিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ। জুনে হোয়্যাটসঅ্যাপে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দু’জন পুরুষকে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে দেখা যায়। দাবি করা হয়, এদের একজন আজমিন।

আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আগেও সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। তিনি এই অভিযোগে জেলও খেটেছেন। তার সমর্থকরা অবশ্য এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। ১৯৯৮ সালে মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার শিষ্য ছিলেন আনোয়ার। তবে দু’ জনের মধ্যে বিবাদ শুরু হলে আনোয়ারকে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত করা হয়। এরপরই তার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে তাকে জেলে যেতে হয়। ২০০৮ সালে আবারও তার বিরুদ্ধে নিজের ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে সমকামিতার অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০১৫ সালে তাকে এই অভিযোগে ৫ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়।

পরে অবশ্য আনোয়ার ও মাহাথির নিজেদের দ্বন্দ্ব ভুলে এক হন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দলকে পরাজিত করে তাদের জোট। ক্ষমতা বণ্টনের অংশ হিসেবে মাহাথির প্রথমে ও পরে আনোয়ারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে। মাহাথিরের নেতৃত্বে জোট সরকার ক্ষমতায় এলে আনোয়ার মালয়েশিয়ান রাজার নিকট হতে সাজা মওকুফ পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পান।

আনন্দে রসগোল্লা খেলেন আর এখন কলিজায় ঘা লাগে ফখরুল সাহেব- বললেন নানক

জে আই সমাপ্ত : ভারতের পার্লামেন্টে দেয়া বিজেপির বক্তব্যের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সমালোচনা করে আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ ডাক বাংলো মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন বিজেপি যেদিন ক্ষমতায় এসেছিল, মির্জা ফখরুলরা সেদিন আনন্দের চোটে রসগোল্লা খেয়েছিলেন। মনে করেছিলেন এখনি বিজেপি তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। এখন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ যখন বললেন– বিএনপির আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বেশি হয়েছে, তখন কী আঁতে ঘা লাগে; কলিজায় ঘা লাগে মির্জা ফখরুল সাহেব।

এ সময় তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হিন্দুদের ওপর বর্বর নির্যাতন করা হয়েছিল, পূর্ণিমার মতো মেয়েকে গ্যাং রেপ (গণধর্ষণ) করা হয়েছিল। সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবনকে অতিষ্ঠ করেছিল বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন, যুগ্ন-সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাদলা আশরাফ প্রমুখ।

সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান।

যুক্তরাজ্য নির্বাচন ২০১৯: ইসলাম ও ইহুদি বিদ্বেষ

নির্বাচনের প্রচারণার সময় গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের মালিকানাধীন একটি বেকারিতে থেমেছিলেন।

প্রচারণার জন্য গণমাধ্যমের সামনে সবকিছু বেশ সতর্কভাবে পরিকল্পিত ছিল। হঠাৎ করে একজন চিৎকার করে বলতে লাগলেন, “আপনি আমাদের ওই লোকটার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন”।

বিরোধী নেতা জেরেমি করবিনের কথা বলছিলেন লোকটি। এটা পরিষ্কার যে বরিস জনসন ইহুদিদের ভোট আকর্ষণ করতে চাইছেন আর সেজন্যেই ইহুদিদের সাথে জনসংযোগ।

তবে ব্রিটেনে নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে কোন প্রধানমন্ত্রী ধর্মকে সামনে রেখে এগুবেন এটা গত কয়েক বছর আগেও চিন্তার বাইরে ছিল।

যুক্তরাজ্যে এবারের নির্বাচনে ব্রেক্সিট নিয়ে এমনিতেই ব্যাপকভাবে বিভেদ লক্ষণীয়।

কিন্তু প্রচারণা চলাকালীন যে বিষয়গুলো বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হল ইসলাম ও ইহুদি বিদ্বেষ, হিন্দু ভোটার আর বর্ণবাদ।

দেশে মূর্খের শাসন চলছে: ব্যারিস্টার মইনুল

দেশে মূর্খের শাসন চলবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে অস্তিত্বহীন করাই আমাদের সরকারের কাজ। দেশে মূর্খতার শাসন চলছে। আমরা যে লেখালেখি করে, রক্ত দিয়ে, সংগ্রাম করে, যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। আজ ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলার মাধ্যমে সব হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে যে ক্ষমতায় আছে সেটা অনেক বড় লজ্জার ব্যাপার। কোনো দাবি আদায়ের মতো সরকার আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করেছি বিদ্যা দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে দেশ গড়ার। কিন্তু আজ মানুষের অধিকার নেই। মানুষকে বিচারহীনতায় ভুগতে হচ্ছে।

সরকার আন্তর্জাতিকভাবে কোনো মর্যাদা পাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, মানুষকে তার মৌলিক অধিকার থেকে যে বঞ্চিত করে, সে ডাকাত। ভোট ডাকাতির চেয়েও বড় ডাকাতি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

ড. কামাল বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আর এই স্বাধীন দেশের মানুষ যেন তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে সেজন্য মাত্র এক বছরের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করেছি। জনগণ ক্ষমতার মালিক, তাই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই সংবিধান করেছি। কিন্তু আজ দেশে বাক স্বাধীনতা নেই। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

বাঙালি নির্যাতন সহ্য করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঙালি জাতি নির্যাতন সহ্য করার জাতি না। আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে, রক্ত দিয়ে যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের অধিকার আদায় করি। আমাদের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আন্দোলন করতে হবে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল হুদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক তালুকদার মনিরুজ্জামান মনিরের সঞ্চালনায় সভায় সাবেক মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মো. মোফাজ্জাল করিম প্রমুখ বক্তব্য দেন

ভারতে অমুসলিমদের নাগরিকত্ব বিল, সংসদে পেশ

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশক : সাহিদুর রহমান, অফিস : ৪৫, তোপখানা রোড (নীচতলা)পল্টন মোড়, ট্রপিকানা টাওয়ার, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোন : ০১৯১১-৭৩৫৫৩৩। ই-মেইল : shiromonimedia@gmail.com,ওয়েব : www.shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.