বৈশ্বিক সংঘাতে ধর্মীয় উন্মাদনার প্রভাব নেপথ্য

অনলাইন ডেস্ক : হতাশা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় উগ্রবাদকে উস্কে দিচ্ছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে উল্কার গতিতে প্রভাব বিস্তার করা ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গী গ্রুপ যেভাবে পশ্চিমা জিহাদীদের দলে ভেড়াচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, বৈশ্বিক সংঘাতে ধর্মীয় উন্মাদনা প্রভাব রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশক ধরে চলা একনায়কতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য দেখা দেয় আরব বসন্ত। তারপর ২০১৪ সালে সিরিয়া এবং ইরাকজুড়ে আইএস জঙ্গীদের আবির্ভাব। পাশাপাশি গত ৬ বছর ধরে চলা যুদ্ধে ধ্বংসপ্রায় গাজা উপত্যকা।

এসব অঞ্চলে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পরা দুর্নীতি, যৎসামান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আরব জাতীয়তাবাদী নীতি ধরে রাখতে না পারা এবং ফিলিস্তিনি সমস্যা সমাধান না হওয়ার বিকল্প পথ হিসেবে এসব অঞ্চলের মানুষ মূলত ইসলামী রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে। এসব অঞ্চলে মূলত একেশ্বরবাদী তিন ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে। এ বিষয়ে কার্নেগি মিডিলিস্ট সেন্টারের ভিজিটিং স্কলার রাফায়েল লেয়েভার বলেন, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আগ্রাসনই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এ আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় উপদল সৃষ্টি হতে থাকে। ঠিক ওই সময় থেকেই আরব বিশ্বে প্রভাব সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে ইরানের আবির্ভাব। রাফায়েল লেয়েভার আরও বলেন, ওই সময় থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মূলত সুন্নি চেতনাবোধ মাথাচাড়া দিতে থাকে। সিরিয়াকে মূলত নিয়ন্ত্রণ করে সংখ্যালঘু শিয়া আলাভি সম্প্রদায়। আর এই আলাভি সম্প্রদায়কে নিয়ন্ত্রণ ও অর্থায়ন করে শিয়া অধ্যুষিত ইরান। সিরিয়ায় যারা মার খাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই সুন্নি সম্প্রদায়ের লোক। অপরদিকে ইরাকী সুন্নিদের অভিযোগ যে, তারা শিয়া নেতৃত্বের কাছে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আর এসব কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে আইএস এবং আল নুসরা ফ্রন্টের মতো সুন্নি জঙ্গীগোষ্ঠীর উদ্ভব বলে মনে করেন রাফায়ে। -এএফপি

আইএস দমনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করল মার্কিন সিনেট

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যয় বৃদ্ধি করে এক নতুন বার্ষিক প্রতিরক্ষা বিল অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট। খবর বিবিসি অনলাইনের।

এ বিলে ৫৯ হাজার ৬শ’ কোটি ডলারের সাধারণ পেন্টাগন বাজেট এবং বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধের জন্য ৬ হাজার ৪শ’ কোটি ডলারের বাজেট অনুমোদন করা হয়। এ বিলে দু’বছরের জন্য মধ্যপন্থী সিরীয় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি প্রদানেরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

বিলটি প্রতিনিধি সভায় পাস হয়ে গেছে এবং আইনে পরিণত করতে স্বাক্ষরের জন্য এখন প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে পাঠানো হয়েছে। আইএস সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা এলাকাগুলোতে কঠোর শরিয়া আইন প্রয়োগ করছে। অন্য ধর্মালম্বীদের ওপর তারা নির্যাতন চালাচ্ছে এবং তাদের হত্যা করছে।

আসিফ নজরুল রাজাকার – বিচারপতি মানিক

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের প‌রিবার পা‌কিস্তানিপ‌ন্থী বিহারি উল্লেখ করে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, অনেক বিহারি কিন্তু আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু আসিফ নজরুলের পরিবার তেমন বিহারি নন। সে বিহারি বাবার সন্তান।

আসিফ নজরুলকে একজন রাজাকার ব‌লেও মন্তব্য ক‌রে‌ন তিনি।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাগো বাংলা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বিচারপ‌তি মা‌নিক ব‌লেন, অধ্যাপক এরশাদুল বারী আরেক রাজাকার। তার সহায়তায় আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করে এবং শিক্ষকতা করার সুযোগ পেয়েছেন।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, বঙ্গবন্ধুর কঠিন সংগ্রামে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। কারও বাঁশির হুইসেলে দেশ স্বাধীন হয়নি। সেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারা কটূক্তি করে। ত‌বে হাজার চেষ্টা করলেও তাদের এই কটূ‌ক্তি থেকে বিরত রাখতে পারবেন না। এদের থেকে আমাদের সবসময় দূরে থাকতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলী শিকদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেজর জিয়ার নির্দেশে অভিজিৎকে হত্যা

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় চাকরিচ্যুত সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। জিয়ার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জন জড়িত থাকলেও পাঁচ জঙ্গির পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এক জঙ্গি বন্ধুক যুদ্ধে মারা গেছেন। অভিযুক্ত সব আসামি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (পুরোনো নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য। গতকাল বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম এই অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে ২৫ মার্চ।

অভিযোগপত্রভুক্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে শাহাব (৩৪), মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার (২৫), আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম (২৪), শফিউর রহমান ফারাবী (২৯) ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ৩০)। তাদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক আছেন।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে দুর্বৃত্তরা অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা এবং তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে গুরুতর আহত করে। তাঁরা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী ছিলেন, রাফিদা চিকিৎসক। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে মামলার তদন্তভার ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগে (সিটি) ন্যস্ত করা হয়।

হত্যা পরিকল্পনা ও খুন
অভিজিৎ রায়কে কীভাবে হত্যা করা হয়, কারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়, এর বিস্তারিত বর্ণনা মামলার আসামি আবু সিদ্দিক সোহেল আদালতে দিয়েছেন। ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল বলেন, ২০১৪ সালে তিনি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হন। পরে মেজর জিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি জিয়া ও আবিরের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৫ সালে সায়মন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে তাঁকে আসতে বলেন। সায়মন, আকরাম ও হাসান এলিফ্যান্ট রোডে থাকতেন। বাসায় যাওয়ার পর সায়মন তাঁকে জানান, অভিজিৎ রায়কে হত্যা করতে হবে। আকরাম ওই বাসায় থাকা ল্যাপটপে অভিজিতের ছবি দেখান। ফেসবুকের লিংক দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী ইন্দিরা রোডের যে বাসায় উঠেছিলেন, আকরাম তার আশপাশ ঘুরে আসার পর মেজর জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। জিয়ার নির্দেশ ছিল, অভিজিৎকে বইমেলায় ফেলে হত্যা করতে হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি সোহেল, আকরাম, মোজাম্মেল ও হাসান বইমেলায় যান। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই চার জঙ্গি বইমেলা থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে অবস্থান নেন। তখন সায়মন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার নেতা মুকুল রানাকে খবর দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিজিৎ তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে টিএসসির উত্তর-পূর্ব পাশে যান। তখন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার চারজন অভিজিৎকে কুপিয়ে জখম করেন। বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে আঘাত করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জঙ্গি নেতা মেজর জিয়া, সেলিম, আকরাম, হাসান ও মোজাম্মেল। মূলত তাঁরা সেখানে প্রহরী হিসেবে অবস্থান করেন, যাতে অভিজিৎকে হত্যা করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারেন সবাই। অভিজিৎকে খুন করার জন্য চাপাতি কেনার টাকা দেন মুকুল। টঙ্গী থেকে চারটি ব্যাগ ও চারটি চাপাতি কেনেন জঙ্গিরা।

কারা খুনে অংশ নেয় সে ব্যাপারে অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন আলী ওরফে খলিল ও আনিক অভিজিৎকে প্রথমে কোপায়। তখন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন আরাফাত ও অন্তু। এই চারজন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার সদস্য। অভিজিৎকে কোপানোর সময় একজন রিকশাচালক এগিয়ে আসলে আনিক চাপাতি উঁচিয়ে ভয় দেখান। পরে তাঁরা পালিয়ে যান। মেজর জিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নির্দেশনা দিয়ে অভিজিৎকে হত্যা করেন। অভিজিৎকে হত্যায় প্ররোচনা দেন শফিউর রহমান ফারাবী। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জঙ্গির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। এর মধ্যে মুকুল বন্ধুকযুদ্ধে মারা গেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও জঙ্গি সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, আনিক, অন্তুর পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারেনি বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান হলেন সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক।

চকবাজার ট্রাজেডির দায়ভার স্বীকার করে পদত্যাগ করুন

অনলাইন ডেস্ক ঃ কমরেড এম এ সামাদ, সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)ও সমন্বয়ক,গনতাতন্ত্রিক বাম ঐক্য, তিনি আজ এক বিবৃতিতে বলেন, পুরান ঢাকায় মানুষের জীবন নিয়ে সরকার ছিনিমিনি খেলছে। ক্যামিকেল কারখানা আর জীবন্ত মানুষের বসবাস একসাথে চলতে পারে না। নিমতলী ট্রাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে পুরনো ঢাকার অগ্নি-বিস্ফোরন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চকবাজারে আজ ৮০ জন মানুষের লাশ দেখতে হত না। নিকট আত্মীয়দের কাছে লাশ দাফন করতে ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আর টিভিতে-পত্রিকায় শোকবার্তা দিয়ে রাস্ট্রযন্ত্র এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দ্বায়ভার এড়াতে পারেনা। টাকা দিয়ে এসব মানুষের জীবনের মুল্য নির্ধারন করা নির্মম নিষ্ঠুরতা, মানুষের জীবনের বিনিময়ে টাকা দিয়ে ক্ষতি পুরন দিতে চাওয়ার অর্থ হলো নিহত মানুষ গুলোকে চরম অসন্মান করা, গরু ছাগল বা কোন জীবের সাথে তুলনা করা, সরকারের দায়িত্ব দেশের সকল নাগরিকের যান মালের নিরাপত্তা বিধান করা, এক্ষেএে সরকার কোনভাবেই এই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না, নিমতলি-র ট্রাজেডির পর এই সরকারই ঘোষনা দিয়েছিলেন পুরান ঢাকার সকল কারখানা সরিয়ে ফেলা হবে কিন্তু সরকার তাদের সেই অংগীকার পালনে যেহেতু ব্যর্থ হয়েছে কাজেই এই ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করা উচিত বলে আমরা মনে করি। আর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোন ক্ষতিপুরন নয় যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, যারা ঘোষনা দিয়েও এত বছরে আবাসিক এলাকা থেকে কারখানা সরিয়ে নিতে পারেন নি তাদের বাক্তিগত তহবিল থেকে দিতে হবে। অনতিবিলম্বে পুরান ঢাকা থেকে সকল প্রকার রাসায়নিক কারখানা উচ্ছেদ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। বার্তা প্রেরক কমরেড এম এ সামাদ সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী) ও সমন্বয়ক, গনতান্ত্রিক বাম ঐক্য মোবাইল ০১৭১১১৭৪৯৩৬

কাশ্মীরে হাতে বন্দুক নিলে দেখামাত্র হত্যা করা হবে

অনলাইন ডেস্ক ঃ ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে বিধ্বংসী জঙ্গী হামলার পাঁচদিনের মাথায় আজ ভারতীয় সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, কাশ্মীরের কোনও যুবক হাতে বন্দুক তুলে নিলে তাকে দেখামাত্র হত্যা করা হবে। বিশেষত কাশ্মীরি মায়েদের প্রতি সেনাবাহিনী আজ বার্তা পাঠিয়েছে, তারা যেন তাদের ছেলেদের বন্দুক ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরে আসার জন্য বোঝান। খবর: বিবিসি বাংলা।

ভারতে সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কাশ্মীরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে জঙ্গিদের বাবা-মাকেও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টাতেই এই পদক্ষেপ। তবে কাশ্মীরিরা নিজেরাই কিন্তু বিশ্বাস করছেন না এ ধরণের আবেদনে আদৌ কোনও কাজ হবে।

পুলওয়ামাতে গত বৃহস্পতিবারের আত্মঘাতী হামলায় চল্লিশজনেরও বেশি আধা-সেনা নিহত হওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী এদিনই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুলল।

আর শ্রীনগরের সেই সাংবাদিক সম্মেলনে ফিফটিন কোরের কমান্ডার লে: জেনারেল কানওয়ালজিৎ সিং ধিলোঁ প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরেই সতর্কবার্তা শুনিয়ে রাখলেন কাশ্মীরি জঙ্গীদের বাবা-মায়েদের।

লে: জেনারেল ধিলোঁ সেখানে বলেন, কাশ্মীরি যুবকদের বাবা-মাদের, বিশেষত মায়েদের আমি একটা কথা বলতে চাই। আমি জানি, কাশ্মীরি সমাজে মায়েদের ভূমিকা বিরাট। তাই তাদেরই অনুরোধ জানাব, আপনাদের যে ছেলেরা সন্ত্রাসবাদের রাস্তায় গেছে তাদের আত্মসমর্পণ করে মূল ধারায় ফিরে আসতে বলুন। নইলে কাশ্মীরে যেই হাতে বন্দুক তুলে নেবে আমরা কিন্তু তাদের নির্মূল করব – আর এটাই কাশ্মীরি মায়েদের প্রতি আমাদের বার্তা, আমাদের অনুরোধ।

জঙ্গিরা বন্দুক ফেলে আত্মসমর্পণ করলে তারা ভাল প্যাকেজ পাবেন এবং সরকার তাদের সব রকম সহায়তা করবে, সেনা কর্মকর্তারা সে কথাও আজ মনে করিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু হাতে বন্দুক তুললেই মরতে হবে, এ কথা বলে ভারতীয় সেনা কি কাশ্মীরে নতুন কোনও কঠোরতর নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে?

দিল্লিতে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের প্রধান এবং সাবেক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি কাশ্মীরে বহুদিন ডিভিশনাল কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন – তিনি অবশ্য ঠিক সেরকমটা মনে করেন না।

তিনি বলছেন, এটাকে আমি ঠিক মানবিকতা-বিরোধী পদক্ষেপ বলব না বরং বলব এটা একটা খুব জোরালো পরামর্শ। কারণ ছেলে-মেয়ে যদি র‍্যাডিক্যালাইজড হয়ে যায় তাহলে তার দায়দায়িত্ব বাবা-মাকে অবশ্যই কিছুটা নিতে হয়। তারা যদি এখন বন্দুক নিয়ে দেশের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নামে তাহলে নিজেদের তারা কত বড় বিপদ আর ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে, সেটা বাবা-মার পক্ষেই সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝানো সম্ভব।

‘‌কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার বরাবরের নীতি হল উইনিং হার্টস অ্যান্ড মাইন্ডস অব পিপল। কিন্তু অনেক সময় যখন আর্মির বিরুদ্ধে বড়সড় হামলা হয়ে যায় তখন হয়তো এই নীতি সব সময় বজায় রাখা যায় না। তবু সার্বিকভাবে কাশ্মীরি যুবকদের মন জয় করাটাই কিন্তু সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য থেকে যায় – আর সেটা এখনও থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

কিন্তু কাশ্মীরি যুবকদের মন জয় করার জন্য ভারতীয় সেনার যে বড্ড দেরি হয়ে গেছে – এমন কী সেটা যে কাশ্মীরি মায়েদেরও সাধ্যের বাইরে – তা বলতে এতটুকুও দ্বিধা নেই শ্রীনগরে কাশ্মীর ইউনিভার্সিটির প্রবীণ অধ্যাপক হামিদা নাঈম বানোর।

প্রফেসর বানো বলছিলেন, এতদিন যেন ভারতীয় সেনা কাশ্মীরি যুবকদের মারছিল না! রোজ তারা শত শত যুবক ও কিশোরকে হত্যা করছে, জীবন্ত জ্বালিয়ে দিচ্ছে। কেউ তাদের কিছু বলার আগেই কাশ্মীরি মায়েরা তো কবে থেকেই তাদের ছেলেদের ফিরে আসতে বলছেন, কাঁদতে কাঁদতে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিও মেসেজ পাঠাচ্ছেন – কিন্তু তারপরও তারা ফিরছে কই? আসলে কোনও বাবা-মাই তো হাসিমুখে ছেলেদের জঙ্গীবাদের রাস্তায় ঠেলে দেন না – কাশ্মীরে নির্যাতনের চেহারা দেখে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে তারা নিজেরাই হাতে বন্দুক তুলে নেয়।

পুলওয়ামার ঘটনার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী যে বেশ চাপের মুখে আছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই – আর এই মুহুর্তে জঙ্গীবাদের মোকাবেলায় তারা বন্দুকের ভয়কে যেমন কাজে লাগাতে চাইছে, তেমনি ব্যবহার করতে চাইছে মায়ের ভালবাসাও। কিন্তু জঙ্গীবাদের পথে পা-বাড়ানো কাশ্মীরি তরুণরা এখন ভয় বা ভালবাসা, দুয়েরই অনেক ঊর্ধ্বে – অন্তত তেমনটাই বিশ্বাস করেন সেখানকার বহু মানুষ।

Photo Gallery

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাহিদুর রহমান,অফিসঃ ২২/১, তোপখানা রোড (৫ম তলা) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পার্শ্বে, ঢাকা-১০০০।
অফিস সেল ফোনঃ ০১৬১১-৯২০ ৮৫০, ই-মেইলঃ shiromoni67@gmail.com ,ওয়েবঃ www. Shiromoni.com

Social Widgets powered by AB-WebLog.com.